* আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি
* যেকোনো উস্কানির মুখে ধীর, শান্ত থাকতে হবে
* সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার
* তরুণ প্রজন্মকেই আগামীর নেতৃত্ব নিতে হবে
* বিমানবন্দরে জুতা খুলে খালি পায়ে মাটির স্পর্শ নিলেন
নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ৭১ এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তিনি বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে। শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ৭১ এ যারা শহীদ হয়েছে, ২৪ এ যারা শহীদ হয়েছে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্মকেই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে বলেন তিনি। গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি পরপর তিনবার বলেন আমরা দেশের শান্তি চাই।
এর আগে বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আসে। তারেক রহমানের সঙ্গে আসেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। বিমান থেকে নেমে পরিবার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বের হন তিনি। এরপর বিমানবন্দরের সামনে জুতা খুলে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করার বিষয়টি পরিকল্পনায় ছিল না। হঠাৎ বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সামনে থাকা ফুল বাগানের ভেতরে চলে যান। সেখানে ঘাস ও কিছু গাঁদা ফুলের গাছ রয়েছে। সেখানে তারেক রহমান জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান। একই সঙ্গে নিচু হয়ে মাটি হাতে নেন। এক দলা মাটি নিয়ে পরম মমতায় নাচাচড়া করেন।
দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি লাল-সবুজে সাজানো একটি বিশেষ বাসে ওঠে ৩০০ ফিট এলাকায় তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ উদ্দেশে রওনা দেন। বাসে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও ছিলেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার। এ রাস্তাটুকু পেরিয়ে গণসংবর্ধনার মঞ্চে পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লেগেছে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানের। রাস্তায় অগণিত মানুষের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে পুরো রাস্তায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং উৎসুক জনতা অবস্থান নেন। তারা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। তারেক রহমানও লাল-সবুজের বাসের সামনের দিকে দাঁড়িয়ে পুরো পথ হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা-অভিবাদনের জবাব দেন। এতে ধীর গতিতে এগোয় তারেক রহমানের গাড়িবহর। পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে গণসংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যান। লাল-সবুজে সাজানো একটি বিশেষ বাসে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। মঞ্চে উঠে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তারেক রহমান। মঞ্চে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ সম্বোধনে শুরু করা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, একাত্তর সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এদেশের ছাত্র জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ এই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদবিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি’। সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিং- নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়লগ আছে, আই হ্যাভ এ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। তিনি বলেন, আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। এরপর তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। ১৫ মিনিটের বক্তৃতা শেষ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে স্বাগত জানিয়ে আবার মাইকের কাছে ফিরে এসে নিজের পরিকল্পনার কথা আবারও মনে করিয়ে দেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে আরও বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটিরও বেশি তরুণ প্রজšে§র সদস্য, পাঁচ কোটির মত শিশু, ৪০ লাখের মত প্রতিবন্ধী মানুষ এবং কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এসব মানুষের একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে, এই মানুষগুলোর একটি আকাক্সক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই লক্ষ কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আসুন, আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, আমরা যে শ্রেণীর মানুষ হই, আমরা যে দলেরই রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে; যেকোনো মূল্যে যে কোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে; যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যে কোনো বয়স, যে কোনা শ্রেণী, যেকোনো পেশা, যে কোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এই হোক আমাদের চাওয়া। তারেক রহমান বলেন, একাত্তর সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শত শত, হাজারো গুম-খুনের শিকার হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নীরিহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সালে আমরা দেখেছি আমাদের তরুণ প্রজন্মর সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।
তারেক রহমান বলেন, আজ চব্বিশের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসহ, একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন, এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব; যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। কোনো দেশের নাম উচ্চারণ না করে তিনি বলেন, বিভিন্ন আধিপত্যবাদ শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখনও লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মর যে সদস্যরা আছেন, আপনারাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দিবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মর সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে, যেন এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি; শক্ত ভিত্তির উপরে, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যেন এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি। মঞ্চে এবং মঞ্চের বাইরে থাকা জাতীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে এই দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে, যেকোনো উস্কানির মুখে আমাদের ধীর, শান্ত থাকতে হবে।
তারেক বলেন, আসুন, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি, হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে, এই দেশের উপরে থাকে, ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়পরায়ণতার আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, আজ আসুন, আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবেন, আমরা সকলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়নতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। এই একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার সাথে কী হয়েছে, আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে আমি চাইব, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ উনাকে তৌফিক দেন, উনি যেন সুস্থ হতে পারেন। বক্তৃতার শেষ প্রান্তে নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি স্লোগান ধরেন, আসুন প্রিয় ভাই বোনেরা, সবাই মিলে আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মা খালেদা জিয়াকে দেখতে সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ আগে সেখানে পৌঁছান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতাল গেটের সামনে পৌঁছালে তিনি বাস থেকে নেমে যান। এরপর সেখান থেকে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। এদিকে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার চলাচলের সম্ভাব্য রুট, জনসভাস্থল ও বাসভবন পর্যন্ত নেওয়া হয় বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা। ঢাকা মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ছকের আওতায় মাঠে নামে। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে তার চলাচলের সম্ভাব্য রুটে বসানো হয় একাধিক চেকপোস্ট। নিয়মিত তল্লাশি করা হয় সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের। সড়কের প্রধান মোড়গুলোতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাড়ানো হয় ট্রাফিক পুলিশের নজরদারিও। সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট- এই তিন জোনে ভাগ করে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা পরিকল্পনা।

আপনার মতামত লিখুন :