মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দুটি গাড়িসহ মোট ১৯০ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, জব্দকৃত জমিগুলো ঢাকা জেলার আশুলিয়া, দোহার এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত, যার মোট মূল্য ৩ কোটি ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ টাকা।
এছাড়া দুটি গাড়ির মধ্যে একটির মূল্য ৭৩ লাখ টাকা এবং অপরটির মূল্য ৮৮ লাখ ২২ হাজার ৫২৮ টাকা। দ্বিতীয় গাড়িটি বর্তমানে ধানমন্ডি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক আফরোজা হক খান আদালতে এই জমি ও গাড়ি জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৪ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করে তা দখলে রাখার এবং আটটি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৫৫ কোটি ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ টাকা লেনদেন করার দায়ে দুদক মামলা দায়ের করেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তকালে জানা গেছে যে, আসাদুজ্জামান খান কামাল অবৈধ পন্থায় অর্জিত এসব সম্পদ অন্যত্র বিক্রি, হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং বিচারকালে রাষ্ট্রের অনুকূলে এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব করতে এগুলো জব্দ করা অপরিহার্য। সম্পদসমূহ জব্দ করা না গেলে তা বিক্রি বা হস্তান্তর হয়ে যেতে পারে এবং এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিপুল পরিমাণ সম্পদ এখন রাষ্ট্রের হেফাজতে নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :