মা হওয়ার পর কর্মজীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানালেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। দীপিকা পাড়ুকোনের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে কিয়ারা বলেন, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা ‘বার্নআউট’ কোনো শিল্পেই কারও জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না।
গত জুলাইয়ে স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে কন্যাসন্তান সারায়াহর মা হয়েছেন। মা হওয়ার পর প্রথমবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাজের সময় ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন কিয়ারা।
ভোগ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বার্নআউট কোনো শিল্পেই কারও উপকারে আসে না।
কিয়ারার মতে, মানসিক সুস্থতার ভিত্তি গড়ে ওঠে তিনটি বিষয়ের ওপর মর্যাদা, ভারসাম্য ও সম্মান। ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কাটানোর তাঁর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় কী? কিয়ারা হাসতে হাসতে বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে সারায়াহর খিলখিল হাসির শব্দ।
কিয়ারার এই মন্তব্য এসেছে কয়েক মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত ঘটনার পর। জানা যায়, পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত ও প্রভাস অভিনীত ছবি স্পিরিট থেকে নাকি দীপিকা পাড়ুকোনকে ‘বাদ’ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি নাগ অশ্বিন পরিচালিত ‘কাল্কি ২৮৯৮ এডি’–এর সিকুয়েল থেকেও সরে দাঁড়ান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে মা হওয়া দীপিকা তখন নতুন মায়েদের জন্য চলচ্চিত্রশিল্পে আট ঘণ্টা কাজের শিফট চালুর পক্ষে সোচ্চার হয়েছিলেন। চলতি বছরের অক্টোবরে সিএনবিসি টিভি১৮–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন দীপিকা। তিনি বলেন, শুধু আমি একজন নারী বলেই যদি এটাকে বাড়াবাড়ি বা জোরাজুরি বলে মনে হয়, তাহলে সেটাই হোক। কিন্তু এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে বহু পুরুষ সুপারস্টার অনেক বছর ধরেই দিনে আট ঘণ্টা কাজ করছেন, আর সেটা কখনো খবরের শিরোনাম হয়নি।
দীপিকা আরও যোগ করেন, আমি এখন কারও নাম নিতে চাই না এবং বিষয়টাকে আর বড় করে তুলতে চাই না। কিন্তু এটা খুবই পরিচিত ও প্রকাশ্য সত্য যে বহু পুরুষ অভিনেতা বছরের পর বছর দিনে আট ঘণ্টা কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্তই কাজ করেন, সপ্তাহান্তে কাজই করেন না।

আপনার মতামত লিখুন :